সাইফুল ইসলাম। প্যারিস। ২৪.০৭.২০২৬
ভয়াবহ তাপপ্রবাহ ও দমকা বাতাসের কারণে ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। যেখানে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ-ফেরে উপদ্বীপ পুরোপুরি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সের জিরোন্দ ও লন্দ অঞ্চলের দুটি বড় দাবানলে ইতোমধ্যে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সড়ক ও সমুদ্রপথে বাসিন্দা ও পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কেবল ক্যাপ-ফেরে এলাকা থেকেই প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌপথে শত শত মানুষকে আর্কাশোঁ শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৮০০ দমকলকর্মী, শত শত জেন্ডার্ম ও সেনাসদস্যের পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ বিমান কাজ করছে। তবে তীব্র গরম ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে উঠেছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম সক্রিয় করার অনুরোধ করেছেন, যাতে অতিরিক্ত বিমান ও অন্যান্য সহায়তা দ্রুত পাওয়া যায়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরো ন্যুনেজ জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে দেশে ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা দাবানলে পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।
এদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশ এবং আভিলা প্রদেশে দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অতিরিক্ত চারটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান চেয়েছে। এরই মধ্যে গ্রিস দুটি বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ইতালির বিভিন্ন এলাকাতেও একাধিক দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তীব্র তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও খরা আরও তীব্র হচ্ছে। এর ফলে দাবানল আগের তুলনায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং বড় এলাকা গ্রাস করছে। চলতি বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে দাবানলে পুড়ে যাওয়া মোট ভূমির পরিমাণ ইতোমধ্যে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।