প্যারিস। ২৫ জুলাই ২০২৬
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ কনস্যুলার সেবা।
ই-পাসপোর্ট আবেদনের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া এবং সাম্প্রতিক জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে এ বিশেষ সেবা চালু করেছে দূতাবাস।
গত সপ্তাহে দূতাবাস প্রথম দফায় ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্টএই তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
প্রথম দিনে (২৫ জুলাই) ৮০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কোনো ধরনের পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ই-পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস ই-মেইলের পরিবর্তে ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে অনলাইনে সীমিত সংখ্যক স্লট থাকায় অনেক বাংলাদেশি সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছিলেন না। এছাড়া আগে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করেও অনেক প্রবাসী এখনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাননি।
এসব জটিলতা দূর করতে এবং যাদের ফরাসি প্রশাসনের বা প্রেফেচুরে রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে, তাদের সুবিধার্থে প্রথম দফায় তিনটি শনিবার বিনা অ্যাপয়েন্টমেন্টে ই-পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল বলেন, “আজকের বিশেষ এই সেবার প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি ব্যক্তিকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিগত সময়ে যারা ই-পাসপোর্ট আবেদনের জন্য ই-মেইল করেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেসব আবেদন ও ই-মেইলের জবাবও সম্পন্ন করা হবে।”
ওয়েবসাইটে কারিগরি জটিলতার অভিযোগ
ফ্রান্সে বর্তমানে বাংলাদেশিদের ই-পাসপোর্ট আবেদন নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। দূতাবাস নির্দিষ্ট দিন ও সময় জানিয়ে দেয়, কখন নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত করা হবে।
তবে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার অভিযোগ তুলেছেন।
একজন আবেদনকারী বলেন, “আমি গতকাল রাতে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারিনি। ওয়েবসাইটে বারবার ত্রুটি দেখাচ্ছিল।”
এ বিষয়ে দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল বলেন, “একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে সাময়িক কারিগরি সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমরা আইটি টিমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি, যাতে সাইটটি আরও সহজ, কার্যকর ও প্রবাসীবান্ধব করা যায়।”

জনবল সংকটের প্রশ্ন
দূতাবাসের দ্রুত সেবাদানের ক্ষেত্রে জনবল সংকট অন্তরায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বৃহৎ প্রবাসী কমিউনিটির তুলনায় প্রায় সব দেশেই কনস্যুলার সেবায় জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। তবে এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা বিদ্যমান জনবল ও সক্ষমতা দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
শনিবারের বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীরাও দূতাবাসকে সহায়তা করেন। আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে তারা সেবা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখেন। দূতাবাসের এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন উপস্থিত প্রবাসীরা।
সম্প্রতি ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ই-পাসপোর্টের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাস বিশেষ কনস্যুলার সেবাসহ বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও প্রবাসীদের দাবি, দূতাবাসের সেবা আরও প্রবাসীবান্ধব করা প্রয়োজন। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য একটি কার্যকর টেলিফোন হেল্পলাইন চালু এবং অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করার দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।