বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে তিনি টেলিফোনে কথা বলার পাশাপাশি একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন। জ্বালানি সংকট নিরসনে সম্ভাব্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) মজুত ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) বিকল হয়ে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সংকটের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এছাড়া মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। এ সময় বাংলাদেশের উদ্ভূত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জবাবে আনোয়ার ইব্রাহিম দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাস দেন।
সংকট নিরসনে জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা এবং আরপিজিসিএল সার্বক্ষণিকভাবে এক্সেলারেট এনার্জির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা সমস্যার দ্রুত সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করছেন। এক্সেলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট আজিজ কাসিমের সঙ্গেও এ বিষয়ে তাঁর আলোচনা হয়েছে।
এদিকে মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনাও সক্রিয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, এক্সেলারেট এনার্জি আশা প্রকাশ করেছে যে আগামী সপ্তাহের শুরুতে অতিরিক্ত ২৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আর পরবর্তী সপ্তাহের শেষ নাগাদ বিকল এফএসআরইউ পুরোপুরি সচল করা গেলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।