প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১১, ২০২৬, ৭:৪৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ১১, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
কানাডা থেকে ১ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু: সিবিএসএ-এর কঠোর অবস্থান
বিশেষ প্রতিবেদন
সাইফুল ইসলাম। ১১ আগস্ট ২০২৬
কানাডায় আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া এবং ভিসা নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় ১,০০০ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর (Deportation Process) প্রাথমিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সীমান্ত রক্ষা সংস্থা কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি (CBSA)। কানাডীয় অভিবাসন বিভাগ ও সরকারি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনের বিস্তারিত ও সরকারি সূত্রের তথ্য:
- সিবিএসএ (CBSA)-এর চূড়ান্ত পদক্ষেপ: কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির অফিশিয়াল নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের আশ্রয় আবেদন (Refugee Claim) আদালত বা ট্রাইব্যুনাল থেকে চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়েছে এবং স্টুডেন্ট বা ভিজিটর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করছেন, তাদের দেশ ছাড়ার নোটিশ (Removal Order) দেওয়া হচ্ছে।
- ভুয়া নথিপত্র ও জালিয়াতি রোধ: কানাডা সরকারের অভিবাসন ও সীমান্ত নীতি কঠোর করার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া নথিপত্র ও অসংগতিপূর্ণ ভিসা আবেদনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের নথিপত্র পুনঃপরীক্ষা করা হচ্ছে।
- আইনি সুযোগ ও আপিল ব্যবস্থা: ডিপোর্টেশন বা রিমুভাল অর্ডার জারির পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কানাডার 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফ্যুজি বোর্ড' (IRB)-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে আপিল বা 'প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট' (PRRA)-এর আবেদন জানানোর আইনি সুযোগ পান। তবে সব আইনি আবেদন নাকচ হলে বাধ্য হয়েই কানাডা ছাড়তে হয়।
- পুনঃপ্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: সিবিএসএ-এর নিয়ম অনুযায়ী, যাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ডিপোর্ট করা হয়, ভবিষ্যতে কানাডায় তাদের পুনঃপ্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। বিশেষ ক্ষেত্রে 'অারসি' (Authorization to Return to Canada - ARC)-এর মাধ্যমে সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া তারা আর কোনো দিন কানাডায় প্রবেশ করতে পারেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে সাময়িক ভিসা নবায়ন প্রক্রিয়া কঠিন করায় এবং শরণার্থী আশ্রয় পাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের বরাতে জানা গেছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত