নিজস্ব প্রতিবেদক। ২৬ আগষ্ট ২০২৬
বরগুনার বামনা উপজেলার সোনাখালী এলাকায় নারিকেল গাছের নিচে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে এক নবজাতককে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শিশুটিকে নাড়ি না-কাটা অবস্থায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে পিঁপড়াও ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
জীবনের শুরুতেই এমন নির্মমতার শিকার হওয়া শিশুটির কান্নার শব্দ প্রথমে শুনতে পান স্থানীয় চায়ের দোকানি বাবুল। পরে তিনি বিষয়টি যুবক তারিফ হাওলাদারকে জানান। খবর পেয়ে তারিফ হাওলাদার, ফায়ার সার্ভিসের কামরুজ্জামানসহ স্থানীয় কয়েকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে জীবিত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
পরে নবজাতককে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন এবং শিশুটির নাড়ি কেটে দেন। চিকিৎসকদের তৎপরতায় বর্তমানে শিশুটির অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে মানবিক দৃশ্য তৈরি হয় শিশুটিকে উদ্ধারের পর। উদ্ধারকারী যুবক তারিফ হাওলাদার নিজের বোনের মতো স্নেহ ও মমতায় শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
যে বয়সে একটি নবজাতকের মায়ের বুকের উষ্ণতা ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কথা, সেই বয়সেই তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা সত্যিই হৃদয়বিদারক। তবে অন্ধকারের মাঝেও বাবুল, তারিফ হাওলাদার, ফায়ার সার্ভিসকর্মী কামরুজ্জামান ও স্থানীয়দের মানবিক উদ্যোগ শিশুটির জন্য নতুন জীবনের দরজা খুলে দিয়েছে।
এই নিষ্পাপ শিশুটি যেন সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে এবং জীবনে আর কখনো অবহেলা ও নির্মমতার শিকার না হয়