ডেস্ক রিপোর্ট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬
ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি ফরাসি ভাষা শেখা, পেশাগত যোগাযোগ তৈরি এবং স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দেশটিতে নতুন আসা শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে বাংলাদেশ স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক ফ্রান্সের (বিএসএনএফ) উদ্যোগে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৩ অক্টোবর প্যারিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নতুন শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত বাংলাদেশিরা অংশ নেন। ‘যোগাযোগ, সহযোগিতা ও ক্ষমতায়ন’কে মূল ভাবনা হিসেবে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে নতুন আসা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ফরাসি ভাষা শিক্ষা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, পরিবহন ও চাকরির বাজারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক ফ্রান্সের সভাপতি ড. শামীম আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মিহসান তামিম উপস্থিত থেকে আয়োজনটির নেতৃত্ব দেন। নতুন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিজ্ঞ শিক্ষার্থী, গবেষক ও পেশাজীবীদের পরিচিতি ও যোগাযোগ তৈরির জন্য অনুষ্ঠানে বিশেষ নেটওয়ার্কিং পর্বের আয়োজন করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলেও নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে বাস্তব তথ্য ও পরামর্শ পাওয়া গেলে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রান্সে পড়াশোনা ও জীবনযাপন অনেক সহজ হয়ে উঠতে পারে। অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্যারিসের পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের উদ্যোক্তা তানজিম হোসাইন। তিনি শিক্ষার্থীদের ফরাসি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ভাষাকে বাধা হিসেবে না দেখে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরির মাধ্যম হিসেবে দেখা উচিত। বিমানশিল্পের গবেষণা ও উন্নয়ন খাতের প্রকৌশলী ড. ফ্রাঁসোয়া মিয়া ইউরোপের চাকরির বাজারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক ডিগ্রির ওপর নির্ভর না করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন। একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা ও পেশাগত যোগাযোগ ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি গবেষক ড. আবুল হাসনাত শিক্ষার্থীদের ফ্রান্সের মূলধারার সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিসর আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি মত দেন। অনুষ্ঠানে গবেষণাক্ষেত্রে বাংলাদেশি তরুণদের সম্ভাবনা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বিএসএনএফের কোষাধ্যক্ষ এবং প্যারিস-স্যাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত রসায়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পিএইচডি গবেষক আবদুল্লাহ আল মাসুম ইউরোপের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। গবেষণায় এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একাডেমিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও গবেষণা-নেটওয়ার্কের গুরুত্বের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সংগঠনের দায়িত্বে বিএসএনএফের ব্র্যান্ড নির্বাহী জাকারিয়া ভূঁইয়া এবং যোগাযোগ নির্বাহী মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান। জাকারিয়া ভূঁইয়া প্যারিস-এস্ত ক্রেতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম উপগ্রহ অভিযান বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবমিতি, কম্পিউটার ভিশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান। বিএসএনএফের সভাপতি ড. শামীম আহমেদ বলেন, নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ তৈরি এবং প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার একটি কার্যকর পরিবেশ গড়ে তোলাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। ফ্রান্সে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা বাড়াতে সংগঠনটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আয়োজকদের মতে, ফ্রান্সে আসার পর অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি বাসস্থান, প্রশাসনিক কাগজপত্র, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, পরিবহন ও চাকরির বাজার নিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। অভিজ্ঞ শিক্ষার্থী, গবেষক ও পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা অনেকটাই সহজ হয়। বক্তারা বলেন, বিদেশে পড়াশোনা করতে আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন না, তারা ফ্রান্সে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মেরও প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি ফরাসি ভাষায় দক্ষতা, পেশাগত সক্ষমতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ইতিবাচক বাংলাদেশি পরিচয় গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থী, গবেষক ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি মতবিনিময় ও পারস্পরিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শেষে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।