
সাইফুল ইসলাম। ফ্রান্স।০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, এম.সি. ইনস্টিটিউট ও অল ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা শরীফ আল মোমিন আর নেই। গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আকস্মিক ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটি, সামাজিক ও মানবিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান শরীফ আল মোমিন দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে বসবাস করে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও কমিউনিটিভিত্তিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
আশির দশকে উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে আসেন শরীফ আল মোমিন। সেখানে সাংবাদিকতা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর কিছুদিন গণমাধ্যমে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্যারিসে একজন সফল বাংলাদেশি ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
সম্প্রতি তাঁর নেতৃত্বে ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত হয় এম.সি. ইনস্টিটিউট। আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এ উদ্যোগকে একটি ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এম.সি. ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কার্যক্রমে শরীফ আল মোমিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় ধাপে নামাজের স্থান তৈরির উদ্যোগও তাঁর পরিকল্পনার অংশ ছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ কাজের অগ্রগতি নিয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
শরীফ আল মোমিনের ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ এবং নতুন কিছু সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে তাঁর আরও পরিকল্পনা ছিল। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে এসব উদ্যোগে শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা ব্যক্তিরা শরীফ আল মোমিনকে আন্তরিক, পরোপকারী ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। নতুন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সময় ও শ্রম দিতেন বলে জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা।
তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশি নাগরিক পরিষদ, ফ্রান্স বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (এফবিজেএ), এম.সি. ইনস্টিটিউট, অল ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
শরীফ আল মোমিনের স্বজন ও সহকর্মীরা মনে করেন, তাঁর শুরু করা সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়েই তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো সম্ভব। তাঁর রেখে যাওয়া কাজ ও মানবিক মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
মৃত্যুকালে শরীফ আল মোমিন স্ত্রী ও তিন পুত্রসহ অসংখ্য স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।