
নয়াদিল্লি | আন্তর্জাতিক ডেস্ক। ২৩/০৭/২০২৬
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, গত এক দশকে ১৫৪টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও একজন অপরাধীকেও শাস্তি দেওয়া হয়নি, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
বুধবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সম্পূর্ণ ন্যায্য। শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের বিচার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রসমাজ। কংগ্রেস এসব দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।
📌 যন্তর মন্তরে জনসমুদ্র, থামছে না আন্দোলন
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছেন। বৃষ্টি, বাধা কিংবা প্রশাসনিক চাপ—কিছুই আন্দোলন থামাতে পারেনি।
দিল্লি পুলিশ একপর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং খাদ্য ও পানীয় প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়। আন্দোলনকারীদের জন্য এত বেশি সহায়তা পৌঁছায় যে নেতাদের সামাজিক মাধ্যমে অনুরোধ করতে হয়—“আর খাবার পাঠাবেন না।”
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে কোনো আন্দোলন এত ব্যাপক জনসমর্থন পায়নি।
🏛️ টানা তৃতীয় দিন অচল সংসদ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলো অনড় অবস্থানে থাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। কালো পোশাক পরে সংসদ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ করেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা।
সরকার আলোচনার প্রস্তাব দিলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। ফলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হচ্ছে।
⚠️ ছাত্রনেতাদের হুঁশিয়ারি
আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অনাগ্রহ প্রকাশ করে বলেছেন, দাবি মেনে নিলেই কেবল আলোচনা সম্ভব।
সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রাংকা বলেন,
“২০ জুলাই যা হয়েছে, তা শুধু ট্রেলার ছিল। পুরো সিনেমা এখনো বাকি।”
তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ দিল্লিতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
🌍 দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আন্দোলন
দিল্লির বাইরে গুজরাট, কর্ণাটকসহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। বেঙ্গালুরু, আহমেদাবাদসহ বিভিন্ন শহরে তরুণরা রাস্তায় নেমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
এদিকে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সমর্থন আরও বাড়ছে। ছাত্রনেতারা তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন, তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
⚖️ দিল্লি হাইকোর্টের কড়া মন্তব্য
পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত পুলিশকে সিসিটিভি ফুটেজ ও সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে মন্তব্য করেছে—
“এই অত্যাচার গোটা দেশের বিবেক নড়িয়ে দিয়েছে।”
🔍 রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে
বিজেপির একাংশ এই আন্দোলনের পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেও বিরোধী দলগুলো তা প্রত্যাখ্যান করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন শুধু শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে সরকারের জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে জাতীয় বিতর্কে পরিণত হচ্ছে।