
ভোর ৪টা। রাজধানীর রাজপথ তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। এরই মধ্যে বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে লম্বা গাড়ির সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। স্টিয়ারিংয়ে মাথা রেখে ক্লান্ত চোখে অপেক্ষা করছেন চালকরা। সকাল সাড়ে ১০টা পেরিয়ে গেলেও গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছেও। নবীন হোসেনের মতো হাজারো সিএনজি চালকের কাছে প্রতিটি দিন এখন অনিশ্চয়তা আর দীর্ঘ অপেক্ষার আরেকটি নাম।
কিন্তু হঠাৎ কেন এমন পরিস্থিতি? এর উত্তর মিলছে পেট্রোবাংলার তথ্যেই। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ২২টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৯০০ থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বাকি অংশ পূরণে নির্ভর করতে হচ্ছে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর। ফলে এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন কিংবা টার্মিনালে যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেই দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে।