
বিশ্বনাথের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা আব্দুর রহমান খালেদের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংকট ও দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি একটি পরিচিত মুখ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
বিশ্বনাথ পৌরসভা, তৎকালীন বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের বড়ইগাঁও গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুর রহমান খালেদ। শৈশব থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহ এবং মানুষের জন্য কাজ করার প্রবল ইচ্ছা থেকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা।
সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীর হাত ধরেই তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ। দীর্ঘদিন ইলিয়াস আলীর একজন কর্মী হিসেবে তাঁর সঙ্গে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন খালেদ।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর বিশ্বনাথের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ওই সময় আন্দোলন-সংগ্রামে স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন আব্দুর রহমান খালেদ। বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠে অবস্থান করেন তিনি।
বিশেষ করে ২৩ এপ্রিলের সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পরও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানান। বরং পরবর্তী সময়েও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আব্দুর রহমান খালেদ বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততাকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম দিক হিসেবে দেখেন সংশ্লিষ্টরা। দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং বিভিন্ন সংকটের সময়ে তাদের পাশে থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর একটি সমর্থক বলয় তৈরি হয়েছে।
আব্দুর রহমান খালেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইলিয়াস পরিবারের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেরও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এম. ইলিয়াস আলীর সময় থেকে পরবর্তী সময়ে তাহসিনা রুশদীর লুনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তাঁকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে।
তবে তাঁর কর্মকাণ্ড শুধু রাজনৈতিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সময়ে অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তায়ও যুক্ত থাকার কথা জানা যায়।

২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর মানবিক সহায়তা নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান আব্দুর রহমান খালেদ। সেখানে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ, পোশাকসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এর কয়েক বছর পর ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হলে আবারও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত হন তিনি। বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
এছাড়া ‘সিলেট এইড’-এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় সম্পৃক্ত থাকার কথাও জানা যায়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আব্দুর রহমান খালেদের পরিচয় একজন দীর্ঘদিনের কর্মী ও সংগঠক হিসেবে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ও মানবিক সংকটের সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ তাঁর কর্মকাণ্ডের আরেকটি দিক তুলে ধরে।
রাজনীতির নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ পথচলা এখনো অব্যাহত। পদ-পদবীর বাইরে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সংকটের সময়ে পাশে থাকার বিষয়টিকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সব মিলিয়ে, বিশ্বনাথের রাজনৈতিক পরিসরে আব্দুর রহমান খালেদের পথচলা একদিকে যেমন দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার গল্প, অন্যদিকে তেমনি বিভিন্ন সময়ে মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার একটি ধারাবাহিকতারও প্রতিচ্ছবি।