
দেশজুড়ে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এরই মধ্যে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেটে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি না হলেও নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিদপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, ১ থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টির এ ধারা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ৩ ও ৪ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও শেষ দিকে সামান্য বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, পশ্চিম মধ্য ছত্তিশগড়ের গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে বিদর্ভ ও দক্ষিণ মধ্যপ্রদেশ এলাকায় লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। তবে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ বজায় রয়েছে।
এ দিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের মাত্র একটি স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিন কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী এক দিনে আবার বাড়তে পারে। এতে কুশিয়ারা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অন্তত দুই দিন স্থিতিশীল থাকার পর নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মারকুলী স্টেশনে কুশিয়ারা নদী বর্তমানে সতর্কসীমায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিনে সিলেট ও রংপুর বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী, কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আবার বাড়তে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলো এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। এসব নদীর পানি আগামী কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর বাড়তে পারে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। ধরলা ও দুধকুমারের পানি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের হালদা, সাঙ্গু, গোমতী ও মুহুরী নদীর পানিও বাড়ছে। পাশাপাশি বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় উচ্চ জোয়ার আগামী দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে নোয়াখালীর বসুরহাটে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে ১১৫, ছাতকে ৮৪ ও নোয়াখালীতে ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে মাইজদীকোর্টে ৮২ এবং সিলেটে ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।