
বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট: ০১/০৮/২০২৬
সিলেটে বিদ্যুৎ প্রিপেইড মিটারে অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক টাকা কাটার অভিযোগে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটারে ১০০০ টাকা রিচার্জ করার মাত্র ৩ দিনের মধ্যেই তা শূন্য হয়ে যাচ্ছে। বাসা-বাড়িতে সাধারণ ব্যবহারের পরও কেন এত দ্রুত টাকা শেষ হচ্ছে, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাচ্ছেন না তারা।
ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহক জানান, প্রিপেইড মিটার বসানোর আগে সাধারণ অ্যানালগ বা এনালগ মিটারে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল আসত, প্রিপেইড মিটারে তার দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি খরচ হচ্ছে। সিলেট শহরের বিভিন্ন এলাকার অধিবাসীরা অভিযোগ তুলেছেন, প্রিপেইড মিটারে অদৃশ্য কোনো ‘ভুতুড়ে চার্জ’ বা হিডেন ফি যুক্ত করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তারা সন্দিহান।
এক ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। প্রিপেইড মিটারে ১০০০ টাকা রিচার্জ করলে আগে অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ চলে যেত। কিন্তু এখন ৩ দিন পার হতে না হতেই মিটার থেকে সতর্কসংকেত বাজতে শুরু করে! বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে গেলে তারা শুধু বলেন মিটারে সমস্যা নেই, কিন্তু টাকা যাচ্ছে কোথায়?”
এ বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মিটারে নির্দিষ্ট হারে ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট এবং ক্ষেত্রবিশেষে বকেয়া বিল সামঞ্জস্য করা হতে পারে। তবে কোনো গ্রাহক যদি সুনির্দিষ্টভাবে অতিরিক্ত টাকা কাটার লিখিত অভিযোগ করেন, তবে তাদের মিটার পরীক্ষা করে দেখা হবে।
এদিকে প্রিপেইড মিটারের এই অস্বাভাবিক চার্জ ও অনিয়মের অবসান চেয়ে গ্রাহকরা সিলেট বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দ্রুত এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সিলেটের সর্বস্তরের নাগরিকেরা।